বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ২৮তম ডিএসএসসি এএমসি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬: যোগ্যতা ও আবেদন প্রক্রিয়া

Bangladesh Army 28th DSSC AMC Circular 2026 for doctors

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ডাক্তার হিসেবে অফিসার হওয়ার মাধ্যমে দেশের সেবা করার পাশাপাশি একটি সম্মানজনক, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে। যারা এমবিবিএস (MBBS) বা এফসিপিএস/এমএস/এমডি কিংবা সমমানের ডিগ্রি অর্জন করেছেন, তাদের জন্য ২৮তম ডিএসএসসি (স্পেশাল পারপাস) এএমসি (আর্মি মেডিকেল কোর) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এই পোস্টে আবেদন প্রক্রিয়া, শিক্ষাগত যোগ্যতা, শারীরিক মাপদণ্ড, নির্বাচন পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস ও দিকনির্দেশনাগুলো বিস্তারিতভাবে গুছিয়ে দেওয়া হলো।

​১. মূল তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ

​যেকোনো চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে ডেট বা সময়সীমা খুব ভালোভাবে মাথায় রাখা জরুরি। এই সার্কুলারের ডেডলাইন মিস করলে কিন্তু আবেদন করার সুযোগ থাকবে না:

  • পদের নাম: ২৮তম ডিএসএসসি (স্পেশাল পারপাস) এএমসি (পুরুষ ও মহিলা উভয়েই আবেদন করতে পারবেন)।

  • বয়সসীমা: ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে সর্বোচ্চ ৪০ বছর (রিক্রুটমেন্টের ক্ষেত্রে বয়স শিথিলযোগ্য নয়)।

  • আবেদনের শুরু: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

  • আবেদনের শেষ তারিখ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬।

​২. শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত স্পেশালিস্ট ক্যাটাগরি

​এই পদের জন্য প্রধান শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এফসিপিএস/এমএস/এমডি/এমবিবিএস অথবা বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BM&DC) কর্তৃক স্বীকৃত সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। এছাড়া নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর পোস্টগ্রাজুয়েট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা (পুরুষ ও মহিলা উভয়েই) আবেদন করার সুযোগ পাবেন। নিচে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিগুলো দেওয়া হলো:

  • ​ক্লিনিক্যাল প্যাথোলজি/মেডিসিন স্পেশালিস্ট

  • ​গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিষ্ট

  • ​ইন্টারনাল মেডিসিন

  • ​রেডিওলজিস্ট

  • ​পেডিয়াট্রিক নেফ্রোলজিস্ট

  • ​বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জন

  • ​এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট

  • ​ফার্মাকোলজিস্ট

  • ​নিউরোলজি

  • ​ডার্মাটোলজিস্ট

  • ​কার্ডিওয়াসকুলার সার্জন

  • ​অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট

  • ​পালমোনোলজিস্ট

  • ​সিউডো মেডিসিন

  • ​রিউমাটোলজিস্ট

  • ​পেডিয়াট্রিক এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট

  • ​কোলোরেক্টাল সার্জন (শুধুমাত্র মহিলা প্রার্থীদের জন্য)

​৩. শারীরিক যোগ্যতার মাপকাঠি

​সেনাবাহিনীতে চাকরির ক্ষেত্রে শারীরিক ফিটনেস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তাই আবেদন করার আগে নিজের উচ্চতা, ওজন ও বুকের মাপ ঠিকঠাক আছে কি না তা নিচের চার্ট থেকে মিলিয়ে নিন: 

পুরুষ প্রার্থীদের জন্য

মহিলা প্রার্থীদের জন্য

উচ্চতা

১.৬৩ মিটার (৫ ফুট ৪ ইঞ্চি)

১.২২ মিটার (৫ ফুট)

ওজন

৪৯ কেজি (১১০ পাউন্ড)

৪৪ কেজি (৯৭ পাউন্ড)

বুক

স্বাভাবিক-০.৭৬ মিটার (৩০ ইঞ্চি)

প্রসার-০.৮১ মিটার (৩২ ইঞ্চি)

স্বাভাবিক-০.৭১ মিটার (২৮ ইঞ্চি)

প্রসার-০.৭৬ মিটার (৩০ ইঞ্চি)

গুরুত্বপূর্ণ নোট: উচ্চতা ও বয়স অনুসারে নির্ধারিত পুরুষ প্রার্থীদের অতিরিক্ত ওজন শিথিলযোগ্য। প্রার্থীদের অবশ্যই জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং অবিবাহিত বা বিবাহিত উভয় প্রার্থীরাই সেনা নীতি অনুযায়ী আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া সেনা, নৌ বা বিমান বাহিনী কিংবা যেকোনো সরকারি চাকরিরত প্রার্থীরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এনওসি (NOC) বা অনুমতিপত্র নিয়ে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

​৪. আবেদন করার নিয়ম ও ফি প্রদান প্রক্রিয়া

​পুরো আবেদন প্রক্রিয়াটি অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। নিচে সহজ ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

  1. ​প্রথমে অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।

  1. ​হোম পেজে গিয়ে 'Apply Now' অপশনে ক্লিক করতে হবে এবং 28th DSSC (Special Purpose) AMC কোর্সে যাওয়ার পর আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে।

  1. ​অনলাইন আবেদনে ১,০০০/- (এক হাজার) টাকা এবং টেলিটক, VISA/Master Card, TAP, bKash, Nagad কিংবা Rocket-এর মাধ্যমে আরও ১,০০০/- (এক হাজার) টাকা অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দিতে হবে।

  1. ​আবেদন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর প্রাপ্ত কল-আপ লেটারটি অবশ্যই প্রিন্ট করে নিতে হবে এবং পরীক্ষার দিন কল-আপ লেটারের সাথে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সঙ্গে রাখতে হবে।

জরুরি সতর্কতা: মৌখিক পরীক্ষার দিন সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সার্টিফিকেট ও মার্কশিট (যেমন—এসএসসি, এইচএসসি, এমবিবিএস, ইন্টার্নশীপ এবং এফসিপিএস/এমএস/এমডি/এমএসসি বা সমমানের সনদ এবং বিএমএন্ডসি রেজিস্ট্রেশন কার্ড) বোর্ডে প্রদর্শন করতে হবে। অন্যথায় প্রার্থী অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। ভর্তি প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ভুল বা মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে তা সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে।

​৫. নির্বাচন পদ্ধতি ও সিলেকশন ধাপসমূহ

​একটি নিয়মতান্ত্রিক ও প্রতিযোগিতামূলক ধাপের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচন করা হয়:

  • প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও মৌখিক পরীক্ষা: আগামী ২২-২৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ডিজিএমএস অফিস, ঢাকা সেনানিবাসে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

  • প্রাথমিক ফলাফল: প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও মৌখিক পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হবেন, তাদের এসএমএস বা টেলিফোনের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

  • মনস্তাত্ত্বিক ও চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: প্রাথমিক ধաբ পার হওয়ার পর পরবর্তী পরীক্ষাগুলো যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।

  • চূড়ান্ত নির্বাচন: স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সব ধাপে যোগ্যতা অর্জনের পর সেনা সদরের পারসোনেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পরিদপ্তর কর্তৃক মেধাক্রম অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।

​৬. ট্রেনিং, কমিশন ও আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা

​ডাক্তার হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো এর সম্মান ও সুযোগ-সুবিধা:

  • প্রশিক্ষণ: চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর বিএমএ-তে ১০ (দশ) সপ্তাহের মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে।

  • কমিশন ও পদবি: সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করার পর বিধি মোতাবেক সরাসরি মেজর পদে কমিশন প্রদান করা হবে।

  • বেতন-ভাতা: সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাসহ সশস্ত্র বাহিনীর বেতনক্রম অনুযায়ী অফিসারদের আকর্ষণীয় বেতন ও ভাতা প্রদান করা হয়।

  • চিকিৎসা সুবিধা: সামরিক হাসপাতালসমূহে উচ্চমানের চিকিৎসা সুবিধা এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য নগদ আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।

  • সন্তানদের অধ্যয়ন: সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত দেশের স্বনামধন্য স্কুল ও কলেজসমূহে অফিসারদের সন্তানদের জন্য পড়াশোনার বিশেষ সুযোগ রয়েছে।

​৭. বিশেষ দ্রষ্টব্য ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা

  • ​সামরিক মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের পূর্বে প্রার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে সাঁতার জানতে হবে, তাই যাদের সাঁতার জানা নেই তারা আগে থেকেই এটি শিখে নেওয়ার প্রস্তুতি রাখবেন।

  • ​সার্কুলারের যেকোনো শর্ত পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা সংশোধন করার পূর্ণ সংরক্ষণ ক্ষমতা সেনাসদর নিজের কাছে রাখে।

  • ​চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের যোগাদানপত্র প্রদান বা যেকোনো কারণে তা বাতিলের পূর্ণ ক্ষমতাও সেনাসদরের ওপর ন্যস্ত থাকে।

​৮. জরুরি হেল্পলাইন ও শেষ কথা

​আবেদন বা সার্কুলার সম্পর্কিত কোনো ধরনের সমস্যা বা তথ্যের প্রয়োজন হলে নিচের অফিসিয়াল মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন:

  • সাপোর্ট নম্বর: +৮৮০১৭৯১৩৬১৯৭৯

​সময় শেষ হওয়ার আগেই অর্থাৎ আগামী ১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের মধ্যে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফেলুন এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসগুলো গুছিয়ে নিন। নিজের ওপর আস্থা রাখুন, সঠিক প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাসই আপনাকে আপনার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে। সকল চাকরিপ্রার্থী চিকিৎসকদের জন্য শুভকামনা! 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন