কম্পিউটার বেসিকস গাইড: পেজ সেটআপ, ফন্ট ও শর্টকাট টিপস

 

computer basics page setup and shortcuts guide cover image

বর্তমান ডিজিটাল যুগে কম্পিউটারের প্রাথমিক জ্ঞান থাকাটা কোনো শখের বিষয় নয়, বরং এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অবশ্যম্ভাবী প্রয়োজন। আপনি যদি একজন শিক্ষার্থী হন, চাকরিজীবী হন কিংবা ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়তে চান—কম্পিউটারে লেখালেখি বা ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের কাজ আপনাকে জানতেই হবে। লেখালেখির জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সফটওয়্যার হলো মাইক্রোসফট ওয়ার্ড (Microsoft Word) বা বিভিন্ন টেক্সট এডিটর। এই সফটওয়্যারগুলোর মাধ্যমে প্রাত্যহিক দাপ্তরিক প্রতিবেদন তৈরি থেকে শুরু করে শিক্ষাগত অ্যাসাইনমেন্ট, গবেষণা পেপার কিংবা পেশাদার সিভি (CV) তৈরি করা হয়। কিন্তু সঠিক নিয়ম ও গাইডলাইন না জানার কারণে অনেকেই প্রাথমিক ধাপে হোঁচট খান। আপনার শেখার যাত্রাকে সহজ করতে এবং একটি আকর্ষণীয় ভ্যালু কন্টেন্ট হিসেবে এই নিবন্ধে পেজ সেটআপ থেকে শুরু করে কীভাবে প্র্যাকটিক্যালি লেখা শুরু করতে হয়—সব বিষয় ধাপে ধাপে আলোচনা করা হলো।

​ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যার কী এবং কেন এর ব্যবহার এত বেশি?

​ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যার হলো এমন একটি অ্যাপ্লিকেশন যার সাহায্যে কম্পিউটারে খুব সহজেই যেকোনো লেখা টাইপ করা, এডিট করা, ফরম্যাট করা এবং প্রিন্ট করা যায়। টাইপরাইটারের যুগে কোনো ভুল হলে পুরো কাগজ ফেলে দিয়ে নতুন করে শুরু করতে হতো, কিন্তু আধুনিক ওয়ার্ড প্রসেসরগুলো আমাদের সেই ঝামেলা থেকে মুক্তি দিয়েছে। দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজে অফিশিয়াল মেমো, লেটার, চুক্তিপত্র বা নোটিশ তৈরি করতে এবং শিক্ষাগত ক্ষেত্রে থিসিস, অ্যাসাইনমেন্ট ও নোট তৈরি করতে এই সফটওয়্যারের জুড়ি মেলা ভার। একটি প্রফেশনাল ডকুমেন্ট দেখতে কতটা আকর্ষণীয় হবে, তা অনেকাংশেই নির্ভর করে ব্যবহারকারীর সফটওয়্যার দক্ষতার ওপর।

​পেজ সেটআপ (Page Setup) কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে করবেন?

​যেকোনো ডকুমেন্ট তৈরি করার আগে সবচেয়ে প্রথম এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো পেজ সেটআপ করা। আপনি হয়তো অনেক কষ্ট করে একটি সুন্দর অ্যাসাইনমেন্ট বা রিপোর্ট তৈরি করলেন, কিন্তু প্রিন্ট করার সময় দেখলেন লেখার কিছু অংশ কেটে গেছে বা দেখতে একদমই ভালো লাগছে না। এর মূল কারণ হলো সঠিক পেজ সেটআপ না থাকা। একটি প্রফেশনাল ডকুমেন্টের সৌন্দর্য নির্ভর করে তার মার্জিন এবং পেপারের সাইজের ওপর।

​ধাপে ধাপে পেজ সেটআপ করার নিয়ম:

প্রথমে আপনাকে আপনার কাঙ্ক্ষিত ডকুমেন্টটি ওপেন করতে হবে। এরপর উপরের মেনুবার থেকে অপশনগুলো বেছে নিতে হবে:

  • ​প্রথমে File (ফাইল) মেনুতে ক্লিক করুন।
  • ​এরপর সেখান থেকে Page Setup (পেজ সেটআপ) অপশনটি নির্বাচন করুন।
  • ​পেজ সেটআপ ডায়ালগ বক্সটি ওপেন হলে আপনি দুটি প্রধান অপশন দেখতে পাবেন: একটি হলো Margin (মার্জিন) এবং অন্যটি হলো Paper (পেপার বা কাগজের সাইজ)।

​টেবিল ১: পেজ মার্জিন ও পেপার সাইজের আদর্শ মাপ

ক্যাটাগরি / অপশন

পরিমাপ (ইঞ্চিতে)

ব্যবহারের কারণ / বিবরণ

Top (ওপরে)

১.৫ ইঞ্চি (1.5")

প্রিন্টিং ও হেডার ফাইলিংয়ের সুবিধার জন্য

Bottom (নিচে)

০.৫ ইঞ্চি (0.5")

পৃষ্ঠার নিচের ফুটার বা ব্যালেন্স বজায় রাখতে

Left (বামে)

১.৫ ইঞ্চি (1.5")

স্পাইরাল বাইন্ডিং বা ফাইল করার সময় লেখা ঢাকা পড়া রোধ করতে

Right (ডানে)

০.৫ ইঞ্চি (0.5")

কাগজের ডানপাশের মার্জিন পরিপাটি রাখতে

Paper Width (প্রস্থ)

৮.৫ ইঞ্চি (8.5")

স্ট্যান্ডার্ড কাস্টম পেপার সাইজ অনুযায়ী

Paper Height (দৈর্ঘ্য)

১১ ইঞ্চি (11")

স্ট্যান্ডার্ড কাস্টম পেপার সাইজ অনুযায়ী

লক্ষ্য করুন, বাম পাশে (Left) এবং ওপরে (Top) তুলনামূলক বেশি জায়গা (১.৫ ইঞ্চি) রাখা হয়েছে। এর একটি বাস্তবসম্মত কারণ রয়েছে। সাধারণত আমরা যখন কোনো রিপোর্ট বা ডকুমেন্ট প্রিন্ট করে ফাইল করি বা স্পাইরাল বাইন্ডিং করি, তখন বাম পাশে বা ওপরে কিছুটা জায়গা পিন বা বাইন্ডিংয়ের ভেতরে চলে যায়। তাই সেখানে মার্জিন বেশি রাখলে আপনার মূল লেখা কখনোই ঢাকা পড়ে যাবে না। অন্যদিকে ডান ও নিচের দিকে ০.৫ ইঞ্চি মার্জিন রাখলেই তা দেখতে বেশ পরিপাটি লাগে।

​সঠিক ফন্ট সাইজ এবং স্টাইল (Font Selection & Formatting): বাংলা ও ইংরেজির সঠিক মেলবন্ধন

​একটি ডকুমেন্টের পেজ সেটআপ যতই নিখুঁত হোক না কেন, ফন্ট সিলেকশন বা লেখার ডিজাইন যদি মানসম্মত না হয়, তবে পুরো পরিশ্রমটাই মাটি হয়ে যেতে পারে। একটি প্রফেশনাল ডকুমেন্টে বাংলা লেখার ক্ষেত্রে বাংলা ফন্ট এবং ইংরেজি লেখার ক্ষেত্রে ইংরেজি ফন্টের সঠিক ব্যবহার ডকুমেন্টকে অত্যন্ত নান্দনিক করে তোলে।

​বাংলা ও ইংরেজি ফন্ট এবং সাইজ নির্দেশিকা

ভাষার ধরণ

প্রস্তাবিত ফন্ট (Font Name)

আদর্শ সাইজ (Font Size)

উপযুক্ত ব্যবহারের ক্ষেত্র

বাংলা লেখা

Kalpurush / SolaimanLipi

১২ pt থেকে ১৪ pt

মূল প্যারাগ্রাফ, প্রবন্ধ বা প্রতিবেদন

ইংরেজি লেখা

Times New Roman / Arial / Calibri

১২ pt থেকে ১৪ pt

দাপ্তরিক চিঠি, সিভি বা একাডেমিক পেপার

শিরোনাম (Heading)

ফন্ট পরিবর্তন করে বোল্ড (Bold)

১৬ pt থেকে ১৮ pt

ডকুমেন্টের মূল বা সাব-হেডিং

  • ​বাংলা লেখার ফন্ট: বাংলা লেখার জন্য সর্বদা ইউনিকোড (Unicode) ভিত্তিক মানসম্মত ফন্ট ব্যবহার করা উচিত। যেমন—'Kalpurush' (কালপুরুষ) বা 'SolaimanLipi' (সোলায়মানলিপি) ফন্টগুলো দাপ্তরিক কাজ, বই বা প্রবন্ধ লেখার জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় ও চমৎকার। এই ফন্টগুলো সব ডিভাইসে নিখুঁতভাবে রেন্ডার হয়।
    1. ​ইংরেজি লেখার ফন্ট: মিশ্র বা ইংরেজি লেখার ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড ফন্ট নির্বাচন করা জরুরি। যেমন—ক্লাসিক ও ফরমাল লুকের জন্য 'Times New Roman' বা মডার্ন ও ক্লিন লুকের জন্য 'Arial' কিংবা 'Calibri' ফন্ট ব্যবহার করা বিশ্বজুড়ে দাপ্তরিক মানদণ্ড।

    ​বাংলা লেখার সাথে ইংরেজি লেখার সিস্টেম ও কীবোর্ড লেআউট পরিবর্তন

    ​একটি ডকুমেন্টে যখন আমরা বাংলা লেখার পাশাপাশি ইংরেজি শব্দ বা বাক্য লিখতে যাই, তখন ভাষা পরিবর্তনের নির্দিষ্ট সিস্টেম জানা প্রয়োজন। নিচে এই প্রক্রিয়াটি আলোচনা করা হলো:

    • ​ইউনিকোড বা অভ্র/বিজয় কিবোর্ডে ভাষা পরিবর্তন: আপনি যদি মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে সরাসরি অভ্র (Avro) বা বিজয় (Bijoy) সফটওয়্যার ব্যবহার করে বাংলা লেখেন, তবে খুব সহজেই ভাষা পরিবর্তন করতে পারেন। অভ্র কিবোর্ড ব্যবহার করলে কিবোর্ডের F12 বা নির্দিষ্ট হটকি প্রেস করে এক ক্লিকেই বাংলা থেকে ইংরেজি এবং ইংরেজি থেকে বাংলায় চলে যাওয়া যায়।
    • ​উইন্ডোজের বিল্ট-ইন ল্যাঙ্গুয়েজ সুইচিং সিস্টেম (Windows Language Switch): কম্পিউটারে যদি একাধিক ভাষা ইন্সটল করা থাকে, তবে কীবোর্ড শর্টকাট ব্যবহার করে ভাষা পরিবর্তন করা যায়। একসঙ্গে Windows Key + Spacebar অথবা Alt + Shift চাপলে আপনার স্ক্রিনের ভাষা বা ইনপুট মেথড পরিবর্তিত হবে। আপনি যখন ইংরেজি লিখবেন, তখন ফন্ট পরিবর্তন করে 'Times New Roman' বা 'Arial' সিলেক্ট করে নেবেন এবং বাংলায় লেখার সময় 'Kalpurush' বা 'SolaimanLipi' ফন্টে ফিরে আসবেন।

    ​পেজ সেটআপ ও ফন্ট ঠিক করার পরে লেখার প্র্যাকটিক্যাল নমুনা (বাংলা ও ইংরেজি)

    ​পেজ সেটআপ এবং ফন্ট স্টাইল সঠিকভাবে সম্পন্ন করার পর মাইক্রোসফট ওয়ার্ড বা যেকোনো টেক্সট এডিটরে আপনার মূল লেখা কীভাবে শুরু করবেন, তার বাংলা এবং ইংরেজির প্র্যাকটিক্যাল নমুনা নিচে দেওয়া হলো:

    • ​বাংলা লেখার নমুনা: ​শিরোনাম: বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ণনা: বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। এ দেশের সবুজ প্রকৃতি, রূপালী নদী আর সরল মানুষ যে কাউকে মুগ্ধ করে। বর্ষায় এ দেশের রূপ এক অন্য মাত্রা পায়, যখন চারপাশ পানিতে থৈ থৈ করে এবং মাঠের পর মাঠ ধানক্ষেত বাতাসে দুলতে থাকে।
    • ​শিরোনাম: বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

      বর্ণনা: বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। এ দেশের সবুজ প্রকৃতি, রূপালী নদী আর সরল মানুষ যে কাউকে মুগ্ধ করে। বর্ষায় এ দেশের রূপ এক অন্য মাত্রা পায়, যখন চারপাশ পানিতে থৈ থৈ করে এবং মাঠের পর মাঠ ধানক্ষেত বাতাসে দুলতে থাকে।


      • ​ইংরেজি লেখার নমুনা: ​Title: The Importance of Digital Literacy in Modern Era Content: In the contemporary world, digital literacy has become an essential skill for everyone. Whether you are a student, a corporate professional, or a freelancer, the ability to use word processing software effectively can significantly boost your productivity.
      • ​Title: The Importance of Digital Literacy in Modern Era

        Content: In the contemporary world, digital literacy has become an essential skill for everyone. Whether you are a student, a corporate professional, or a freelancer, the ability to use word processing software effectively can significantly boost your productivity.


        ​নমুনা লেখার কিছু জরুরি নিয়ম:

        1. ​ফন্ট সিলেকশন: বাংলা লেখার ক্ষেত্রে 'SolaimanLipi' এবং ইংরেজি লেখার ক্ষেত্রে 'Times New Roman' ফন্ট ব্যবহার করুন।
        2. ​প্যারাগ্রাফ তৈরি: লেখা পড়ার সুবিধার জন্য ছোট ছোট অনুচ্ছেদ বা প্যারা করে লিখবেন। দুটি প্যারার মাঝে অল্প ফাঁকা জায়গা রাখলে তা দেখতে অনেক পেশাদার লাগে।
        3. ​অ্যালাইনমেন্ট (Alignment): লেখাগুলো যেন কাগজের মার্জিনের ভেতর সুন্দরভাবে বিন্যস্ত থাকে, সেজন্য জাস্টিফাই (Ctrl + J) অ্যালাইনমেন্ট ব্যবহার করুন।

        ​টেক্সট সিলেক্ট (Select) করার জাদুকরী কৌশল

        ​কম্পিউটারে কোনো লেখার ওপর কোনো অ্যাকশন (যেমন- কপি করা, ডিলিট করা, রঙ পরিবর্তন করা বা বড়-ছোট করা) প্রয়োগ করতে চাইলে সবার আগে সেই লেখাটিকে কম্পিউটারকে নির্দিষ্ট করে বুঝিয়ে দিতে হয়। আর এই বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াটিই হলো 'সিলেক্ট' বা নির্বাচন করা।

        • ​সম্পূর্ণ লেখা একসঙ্গে সিলেক্ট করা (Select All): কীবোর্ডের Ctrl বোতাম চেপে ধরে A (Ctrl + A) চাপলেই আপনার ডকুমেন্টের সব লেখা এক সেকেন্ডের মধ্যে সিলেক্ট হয়ে যাবে।
        • ​কার্সরের (Cursor) সাহায্যে নির্দিষ্ট অংশ সিলেক্ট করা: কীবোর্ডের Shift বাটন চেপে ধরে অ্যারো কী (Arrow Keys -> <- Up Down) ব্যবহার করে নিখুঁতভাবে নির্দিষ্ট শব্দ বা লাইন সিলেক্ট করা যায়।
        • ​মাউসের সাহায্যে সিলেক্ট করা: মাউসের লেফট বাটন চেপে ধরে যতটুকু লেখা সিলেক্ট করতে চান, ততটুকু পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া (Dragging) যায়।

        ​কপি এবং পেস্ট (Copy and Paste) - একই কাজ বারবার করার হাত থেকে মুক্তি

        ​ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের সবচেয়ে যুগান্তকারী আবিষ্কার সম্ভবত এই কপি এবং পেস্ট ফিচারটি। কপি করার অর্থ হলো কোনো লেখার একটি হুবহু অনুলিপি তৈরি করা, যেখানে মূল লেখাটিও তার জায়গায় থেকে যাবে।

        • ​মেনুবার ব্যবহার করে: প্রথমে লেখা সিলেক্ট করে ওপরের Edit মেনু থেকে Copy এবং কাঙ্ক্ষিত স্থানে গিয়ে Paste অপশনে ক্লিক করতে হবে।
        • ​কীবোর্ড শর্টকাট দিয়ে দ্রুত কপি-পেস্ট: প্রথমে লেখা সিলেক্ট করে Ctrl + C দিয়ে কপি করুন এবং নির্দিষ্ট স্থানে কার্সর রেখে Ctrl + V প্রেস করে পেস্ট করুন।

        ​কাট এবং পেস্ট (Cut and Paste) - ভুল সংশোধন এবং লেখাকে সরিয়ে নেওয়া

        ​কাট (Cut) করার মানে হলো, মূল লেখাটি তার আগের জায়গা থেকে সম্পূর্ণ মুছে যাবে এবং আপনি যেখানে পেস্ট করবেন শুধুমাত্র সেখানেই স্থানান্তরিত হবে।

        • ​শর্টকাট: লেখা সিলেক্ট করে Ctrl + X চাপলে লেখাটি কাট হয়ে যায়। এরপর নির্ধারিত স্থানে গিয়ে Ctrl + V চেপে পেস্ট করতে হয়।

        ​শর্টকাট কী-এর মাস্টার চার্ট (Keyboard Shortcuts Table)

        ​কম্পিউটারে কাজ করার গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে কীবোর্ড শর্টকাটের জুড়ি নেই। নিচে দৈনন্দিন কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত দরকারি শর্টকাটগুলোর একটি মাস্টার টেবিল দেওয়া হলো:

        ​টেবিল ৩: প্রয়োজনীয় কীবোর্ড শর্টকাটসমূহ

    ক্রমিক

    শর্টকাট কী (Shortcuts)

    কাজের নাম (Action Name)

    বিস্তারিত বিবরণ

    ১

    Ctrl + A

    Select All

    ডকুমেন্টের সমস্ত লেখা বা ফাইল একসঙ্গে সিলেক্ট করতে

    ২

    Ctrl + C

    Copy

    নির্বাচিত লেখা বা অবজেক্ট কপি বা অনুলিপি করতে

    ৩

    Ctrl + V

    Paste

    কপি বা কাট করা লেখা নির্দিষ্ট স্থানে পেস্ট করতে

    ৪

    Ctrl + X

    Cut

    নির্বাচিত লেখা কাট বা এক স্থান থেকে সরিয়ে নিতে

    ৫

    Ctrl + S

    Save

    সম্পাদিত ফাইলটি দ্রুত সেভ বা সংরক্ষণ করতে

    ৬

    Ctrl + P

    Print

    ডকুমেন্টটি সরাসরি প্রিন্ট করার ডায়ালগ বক্স ওপেন করতে

    ৭

    Ctrl + Z

    Undo

    কোনো ভুল কাজ হয়ে গেলে তা এক ধাপ পেছনে নিতে

    ৮

    Ctrl + Y

    Redo

    আন্ডু করা কাজকে আবার সামনে ফিরিয়ে আনতে

    ৯

    Ctrl + F

    Find

    ডকুমেন্টের ভেতর নির্দিষ্ট কোনো শব্দ বা বাক্য খুঁজতে

    ১০

    Ctrl + B

    Bold

    নির্বাচিত

    ক্লিপবোর্ড হিস্ট্রি (Clipboard History) ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার

    ​সাধারণত আমরা যখন কোনো লেখা কম্পিউটার বা ল্যাপটপে কপি করি, তখন ক্লিপবোর্ডে কেবল সর্বশেষ কপি করা লেখাটিই জমা থাকে। কিন্তু উইন্ডোজের আধুনিক সংস্করণগুলোতে (যেমন Windows 10 এবং Windows 11) একটি চমৎকার ফিচার রয়েছে যার নাম 'ক্লিপবোর্ড হিস্ট্রি'। এর মাধ্যমে আপনি একসঙ্গে একাধিক লেখা বা ছবি কপি করে রাখতে পারবেন।

    ​ব্যবহার করার নিয়ম:

    কীবোর্ড থেকে একসঙ্গে Windows Key + V প্রেস করুন। স্ক্রিনের ডানপাশে একটি ছোট পপ-আপ উইন্ডো বা ক্লিপবোর্ড হিস্ট্রি বক্স ভেসে উঠবে, যেখানে আপনার সাম্প্রতিক সময়ে কপি করা সমস্ত লেখার তালিকা দেখতে পাবেন। সেখান থেকে কাঙ্ক্ষিত লেখার ওপর একটি ক্লিক করলেই সেটি ডকুমেন্টে পেস্ট হয়ে যাবে।

    ​সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ Section)

    • ​প্রশ্ন ১: পেজ সেটআপ ভুল হলে বা মার্জিন নষ্ট হয়ে গেলে তা ঠিক করার উপায় কী?
      • ​উত্তর: পেজ সেটআপ ভুল হলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। আপনি যেকোনো সময় মাইক্রোসফট ওয়ার্ড বা গুগল ডক্সের 'Page Setup' অপশনে গিয়ে কাস্টম মার্জিন ম্যানুয়ালি এডিট করে ঠিক করে নিতে পারেন। প্রিন্ট করার আগে সবসময় 'Print Preview' দেখে নেওয়া ভালো।
    • ​প্রশ্ন ২: কপি বা পেস্ট কমান্ড কাজ না করলে কী করব?
      • ​উত্তর: প্রথমে নিশ্চিত করুন যে লেখাটি সঠিকভাবে সিলেক্ট হয়েছে কিনা। শর্টকাট কাজ না করলে মাউস দিয়ে রাইট ক্লিক করে কপি-পেস্ট করুন অথবা সফটওয়্যার ও কম্পিউটার রিস্টার্ট করে নিন।
    • ​প্রশ্ন ৩: ক্লিপবোর্ড হিস্ট্রি (Windows Key + V) কাজ না করলে কী করণীয়?
      • ​উত্তর: উইন্ডোজের Settings > System > Clipboard অপশনে গিয়ে 'Clipboard history' অপশনটি 'On' বা চালু করে দিন।

    ​বিশেষ দ্রষ্টব্য (Disclaimer):

    এই নিবন্ধে বর্ণিত নির্দেশিকা এবং শর্টকাটগুলো মূলত মাইক্রোসফট ওয়ার্ড (Microsoft Word), গুগল ডক্স (Google Docs) এবং স্ট্যান্ডার্ড উইন্ডোজ এনভায়রনমেন্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। সফটওয়্যারের বিভিন্ন সংস্করণ বা অপারেটিং সিস্টেমের আপডেট অনুযায়ী মেনুবারের বিন্যাস বা কিছু শর্টকাটের ব্যবহারে সামান্য তারতম্য হতে পারে। নিখুঁত ফলাফল পেতে সর্বদা জেনুইন সফটওয়্যার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হলো। 

    ​উপসংহার

    ​পরিশেষে বলা যায়, একটি কম্পিউটারে লেখালেখি বা বেসিক কাজ করার জন্য পেজ সেটআপ, ফন্ট ফরম্যাটিং (বাংলা ও ইংরেজির সঠিক সমন্বয়), সিলেক্ট, কপি, কাট, পেস্ট এবং আধুনিক ক্লিপবোর্ড হিস্ট্রি—এই ফিচারগুলো হলো মূল ভিত্তি। ঠিক যেমন একটি বাড়ি তৈরি করার আগে তার ভিত শক্ত করতে হয়, তেমনি কম্পিউটারে দক্ষতা অর্জনের জন্য এই ছোট ছোট বিষয়গুলোতে আপনার হাত পোক্ত থাকতে হবে। নিয়মিত চর্চা চালিয়ে যান, সফলতার পথ আপনার জন্যই উন্মুক্ত!


    Post a Comment

    নবীনতর পূর্বতন