ঘরে বসেই অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করার সহজ নিয়ম ও গাইডলাইন

 

ঘরে বসে অনলাইনে ই-রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম

সারাবছর আয়-ব্যয়ের হিসাব শেষ করে সঠিক সময়ে কর দেওয়া একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব। একসময় আয়কর রিটার্ন (Income Tax Return) জমা দেওয়া মানেই ছিল লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, ফাইলপত্র নিয়ে সারাদিন অফিসে বসে থাকা এবং নানান জটিলতার মুখোমুখি হওয়া। কিন্তু প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (National Board of Revenue - NBR) সময়োপযোগী পদক্ষেপে এখন এই পুরো প্রক্রিয়াটি চলে এসেছে আমাদের হাতের মুঠোয়। যাঁদের ইতিমধ্যে ই-রিটার্ন পোর্টালে (E-Return Portal) রেজিস্ট্রেশন বা অ্যাকাউন্ট করা আছে, তাঁরা খুব সহজেই ঘরে বসে ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের মাধ্যমে তাঁদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন। আপনার যদি এখনো পোর্টালে অ্যাকাউন্ট বা রেজিস্ট্রেশন করা না থাকে, তবে ঘরে বসেই সহজে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে আমাদের ই-রিটার্ন রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম গাইডটি দেখে নিতে পারেন। আজকের এই ব্লগে আমরা ধাপে ধাপে আলোচনা করব কীভাবে আপনি কোনো ধরনের মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই খুব সহজে নিজে নিজে এই কাজটি সম্পন্ন করতে পারবেন।

​ই-রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় যেসকল কাগজপত্র লাগে

​অনলাইন (Online) বা ই-রিটার্ন সিস্টেমে প্রবেশ করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং তথ্য হাতের কাছে গুছিয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে কাজ করার সময় মাঝপথে আটকে যাওয়ার ঝামেলা থাকে না এবং খুব দ্রুত পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা যায়। নিচে ই-রিটার্ন দাখিল করার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের একটি সংক্ষিপ্ত টেবিল দেওয়া হলো:

ক্রমিক

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও উপাদান

বিবরণ ও সতর্কতা

১

টিন (TIN) ও পাসওয়ার্ড (Password)

আপনার ১৩ ডিজিটের সঠিক টিআইএন নম্বর এবং সিক্রেট পাসওয়ার্ড।

২

সচল মোবাইল নম্বর (Mobile Number)

ওটিপি (OTP - One Time Password) পাওয়ার জন্য আপনার নিবন্ধিত ও সচল মোবাইল নম্বর।

৩

আয় বা বেতনের প্রমাণপত্র

চাকরিজীবী হলে কোম্পানির দেওয়া বার্ষিক বেতন বা আয়ের সার্টিফিকেট (Salary Statement)।

৪

ব্যাংক হিসাবের বিবরণী (Bank Statement)

বিগত অর্থবছরের ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা মুনাফা ও সুদের সার্টিফিকেট।

৫

বিনিয়োগের কাগজপত্র

সঞ্চয়পত্র, প্রভিডেন্ট ফান্ড (Provident Fund) বা জীবন বীমার রসিদ (কর রেয়াতের জন্য)।

৬

উৎসে কর কাটার সনদ (TDS Certificate)

যেখানে ট্যাক্স বা কর কাটা হয়েছে, তার অফিশিয়াল সার্টিফিকেট।

৭

সম্পদের হিসাব (Asset Statement)

জমি, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট বা গাড়ির দলিলপত্র ও ক্রয়মূল্যের হিসাব।

৮

ব্যবসায়িক হিসাব

ব্যবসায়ী বা স্বতন্ত্র পেশাজীবী হলে বার্ষিক প্রফিট অ্যান্ড লস অ্যাকাউন্ট (Profit and Loss Account)।

ই-রিটার্ন পোর্টালে লগইন (Login) করার সহজ ধাপ

​যাঁদের আগে থেকেই রেজিস্ট্রেশন করা আছে, তাঁদের জন্য ই-রিটার্ন জমা দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি বেশ সহজ ও সাবলীল। নিচে লগইন থেকে শুরু করে রিটার্ন সাবমিট (Submit) করার মূল ধাপগুলো আলোচনা করা হলো:

​১. পোর্টালে প্রবেশ এবং লগইন

​প্রথমে আপনার কম্পিউটারের ব্রাউজার (Browser) ওপেন করে এনবিআরের অফিশিয়াল ই-রিটার্ন পোর্টালে (etaxnbr.gov.bd) প্রবেশ করুন। এরপর আপনার টিআইএন নম্বর এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। লগইন করার পর আপনার নিবন্ধিত মোবাইলে একটি ওটিপি (OTP) কোড আসবে। নির্দিষ্ট ঘরে কোডটি বসিয়ে পোর্টালটিতে প্রবেশ করুন।

​২. প্রোফাইল (Profile) এবং তথ্য যাচাই

​পোর্টালে প্রবেশ করার পর আপনার ড্যাশবোর্ড (Dashboard) দেখতে পাবেন। এখানে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, বর্তমান ঠিকানা, পেশার ধরণ এবং কর অঞ্চলের বিবরণ দেওয়া থাকবে। একবার চোখ বুলিয়ে দেখে নিন সব ঠিকঠাক আছে কি না। যদি কোনো সংশোধনের প্রয়োজন হয়, তবে সাবমিট করার আগেই তা আপডেট (Update) করে নেওয়া ভালো।

​৩. রিটার্ন ফরম (Return Form) পূরণ করা

​এবার 'Return Submission' অপশনে ক্লিক করুন। সেখানে আপনি কোন অর্থবছরের জন্য রিটার্ন জমা দিচ্ছেন তা সিলেক্ট (Select) করতে হবে। এরপর আপনার হাতের কাছে থাকা কাগজপত্রের সহায়তায় আয়ের উৎসগুলো একে একে যোগ করুন। যেমন—

  • ​চাকরিজীবী হলে বেতনের হিসাব।
  • ​ব্যবসা বা পেশা থেকে আয় থাকলে তার বিবরণ।
  • ​ব্যাংক আমানত বা সঞ্চয়পত্র থেকে প্রাপ্ত মুনাফার তথ্য।
  • ​অন্যান্য উৎস থেকে আয় থাকলে তার সঠিক বিবরণী।

​৪. বিনিয়োগ ও রেয়াতের হিসাব

আপনি যদি কর রেয়াত পাওয়ার শর্ত পূরণ করে থাকেন, তবে আগে থেকে প্রস্তুত করা আপনার বিনিয়োগ সংক্রান্ত সব সঠিক তথ্য নির্ধারিত ঘরে সঠিকভাবে বসিয়ে দিন। এরপর সফটওয়্যারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার মোট করের পরিমাণ এবং প্রযোজ্য রেয়াত হিসেব করে নেবে।

​কর রেয়াত (Tax Rebate) পাওয়ার খাতগুলোর বিস্তারিত বিবরণ

​অনেকেই হয়তো জানেন না যে সঠিক খাতে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত নিয়মে করের পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। একে কর রেয়াত বলা হয়। আপনি যদি নির্দিষ্ট কিছু খাতে আপনার জমানো অর্থ বিনিয়োগ করেন, তবে আপনার প্রদেয় করের ওপর ছাড় পাবেন। নিচে কর রেয়াত পাওয়ার প্রধান খাতগুলোর বিবরণ দেওয়া হলো:

  • ​ডিপিএস (DPS - Deposit Pension Scheme) বা সঞ্চয় স্কিম: ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আপনার নামে থাকা নির্ধারিত মেয়াদী ডিপোজিট স্কিম বা ডিপিএসে নিয়মিত সঞ্চয় করলে কর রেয়াতের সুবিধা পাওয়া যায়।
  • ​জীবন বীমার প্রিমিয়াম (Life Insurance Premium): নিজের বা স্ত্রীর নামে পরিচালিত জীবন বীমা পলিসির বার্ষিক প্রিমিয়াম পরিশোধের রসিদ দেখিয়ে কর রেয়াত দাবি করা যায়।
  • ​শেয়ার বাজার বা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (BSEC) অনুমোদিত কোম্পানির শেয়ার, ডিবেঞ্চার বা মিউচুয়াল ফান্ডে (Mutual Fund) বিনিয়োগ করলে কর রেয়াত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
  • ​প্রভিডেন্ট ফান্ড ও কল্যাণ ফান্ড: চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক বা স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল (Provident Fund) এবং কল্যাণ ফান্ডে চাঁদা প্রদান কর রেয়াতের জন্য বিবেচিত হয়।
  • ​যাকাত প্রদান বা অনুদান: সরকার অনুমোদিত বিভিন্ন দানশীল প্রতিষ্ঠান বা ফান্ডে যাকাত বা অনুদান প্রদান করলেও নিয়ম অনুযায়ী রেয়াত পাওয়া সম্ভব।

​জিরো রিটার্ন (Zero Return) বা করমুক্ত আয়ের সীমার ধারণা

​আমাদের দেশে অনেকের মনেই একটি বড় প্রশ্ন থাকে—আয় করমুক্ত সীমার নিচে হলে কি রিটার্ন জমা দিতে হবে? উত্তর হলো, যাঁদের বার্ষিক আয় সরকার নির্ধারিত করমুক্ত সীমার নিচে, কিন্তু আইন অনুযায়ী টিআইএন রয়েছে এবং নির্দিষ্ট কিছু সেবা গ্রহণের জন্য রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক, তাঁদের ক্ষেত্রে জিরো রিটার্ন (Zero Return) বা শূন্য রিটার্ন দাখিল করতে হয়।

​এর মানে হলো, আপনার আয়ের ওপর কোনো করের পরিমাণ আসেনি, কিন্তু আপনি আপনার বার্ষিক আয় ও ব্যয়ের হিসাব এনবিআরকে অফিশিয়ালি জানিয়ে দিলেন। অনলাইনে ই-রিটার্ন পোর্টালে ফরম পূরণের সময় আপনার মোট আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে দেখালে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার করের পরিমাণ শূন্য বা জিরো দেখাবে। এটি ভবিষ্যতে যেকোনো আইনি বা ব্যাংকিং জটিলতা থেকে আপনাকে মুক্ত রাখবে এবং আপনার আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখবে।

​সাধারণ ভুলত্রুটি এবং তা থেকে বাঁচার উপায় (Common Mistakes)

​অনলাইনে নিজে নিজে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় অনেকেই অজান্তে কিছু সাধারণ ভুল করে ফেলেন, যা পরবর্তীতে নোটিশ বা নানা জটিলতার কারণ হতে পারে। নিচে এই ভুলগুলো এবং তা থেকে বাঁচার উপায় আলোচনা করা হলো:

  • ​ভুল তথ্য বা আয়ের অংক এন্ট্রি করা: অনেক সময় তাড়াহুড়ো করে ফরম পূরণের সময় আয়ের অংক বা ব্যাংক হিসাবের তথ্যে ভুল টাইপ হয়ে যায়। পরামর্শ: সাবমিট করার আগে প্রতিটি তথ্য ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সার্টিফিকেটের সাথে অন্তত দুইবার মিলিয়ে নিন।
  • ​শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করা: অনেকেই রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ বা ডেডলাইনের (Deadline) ঠিক আগের দিন বা রাতে সার্ভারে (Server) ঢোকার চেষ্টা করেন। অতিরিক্ত ট্রাফিকের (Traffic) কারণে তখন সার্ভার স্লো হয়ে যায় বা সাইটে ঢুকতে সমস্যা হয়। পরামর্শ: ডেডলাইনের অনেক আগেই ঠান্ডা মাথায় কাজ শেষ করে ফেলুন।
  • ​কাগজপত্র ও ডিজিটালের অমিল: বাস্তবে আপনার কাছে যে সার্টিফিকেট রয়েছে, অনলাইনে ইনপুট দেওয়ার সময় তার পরিমাণের সাথে অমিল থাকা মারাত্মক ভুল। পরামর্শ: সব সময় আসল কাগজ সামনে রেখে ফরমের নির্দিষ্ট ঘরে সঠিক ফিগারগুলো তুলুন।

​আয়কর পরিশোধ ও অনলাইন পেমেন্ট (Online Payment)

​সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর সিস্টেম আপনার মোট আয়কর বা প্রদেয় করের পরিমাণ স্ক্রিনে প্রদর্শন করবে। যদি আপনার কোনো কর বকেয়া থাকে বা অতিরিক্ত কর পরিশোধের প্রয়োজন হয়, তবে আপনি ঘরে বসেই পোর্টালে যুক্ত থাকা অনলাইন ব্যাংকিং (Online Banking), ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড (Debit/Credit Card) কিংবা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS - Mobile Financial Service)-এর মাধ্যমে খুব সহজেই তা মিটিয়ে ফেলতে পারবেন। পেমেন্ট সফল হওয়ার পর একটি কনফারমেশন রিসিপ্ট (Confirmation Receipt) বা চালান নম্বর পাবেন, যা পোর্টালে সংযুক্ত করে দিতে হবে।

​ফাইনাল সাবমিশন (Final Submission) এবং স্বীকৃতিপত্র সংগ্রহ

​সব তথ্য, আয়ের বিবরণী এবং পেমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর একবার পুরো ফরমটি প্রিভিউ (Preview) করে দেখে নেওয়া নিরাপদ। কোথাও কোনো ভুলত্রুটি না থাকলে আত্মবিশ্বাসের সাথে 'Submit' বাটনে ক্লিক করুন। সাবমিট করার সাথে সাথেই এনবিআরের সিস্টেম থেকে আপনাকে একটি ডিজিটাল প্রাপ্তি স্বীকারপত্র বা অ্যাকনলেজমেন্ট রিসিপ্ট (Acknowledgement Receipt) দেওয়া হবে। এটি প্রিন্ট করে বা পিডিএফ (PDF) ফরম্যাটে সংরক্ষণ করে নিজের কাছে নিরাপদে রেখে দিন। এই স্বীকৃতিপত্রটি আপনার কর পরিশোধের আনুষ্ঠানিক প্রমাণপত্র হিসেবে কাজ করবে।

​অনলাইনে ই-রিটার্ন জমা দেওয়ার সুবিধা

​কেন আপনি নিজে নিজে অনলাইনে ই-রিটার্ন জমা দেবেন, তার পেছনে বেশ কিছু চমৎকার কারণ রয়েছে:

  • ​সময় ও ঝক্কি বাঁচায়: রাস্তার জ্যামে আটকে থেকে কোনো অফিসে দৌড়াতে হয় না। ঘরের সোফায় বসে কিংবা নিজের সুবিধামমতো সময়ে কাজটি করা যায়।
  • ​স্বচ্ছতা ও নির্ভুল হিসাব: অনলাইন সিস্টেম নিজেই অনেক হিসাব কষে দেয়, ফলে বড় ধরনের ভুল হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।
  • ​দ্রুত প্রাপ্তি স্বীকারপত্র: রিটার্ন সাবমিট করার সাথে সাথেই কোনো ঝামেলা ছাড়াই রিসিট হাতে পাওয়া যায়।
  • ​হয়রানি মুক্তি: কোনো ধরনের বাড়তি ঝামেলা বা মধ্যস্থতাকারীর ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না।

​জরুরি সহায়তা ও হেল্পলাইন (Support & Helpdesk)

​অনলাইন রিটার্ন দাখিল করতে গিয়ে যদি কোনো ধরনের প্রযুক্তিগত বা সার্ভারজনিত সমস্যায় পড়েন, তবে করদাতারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অফিশিয়াল কল সেন্টার বা হেল্পলাইনে (Help Line) যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়া পোর্টালের ভেতর থাকা সাপোর্ট অপশন ব্যবহার করেও সমস্যার সমাধান বা টিকিট রাইজ (Ticket Raise) করা সম্ভব।

​বিশেষ দ্রষ্টব্য

​বিশেষ দ্রষ্টব্য: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিয়মকানুন বা কর সংক্রান্ত নীতিমালা যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। তাই অনলাইনে রিটার্ন সাবমিট করার পূর্বে সবসময় এনবিআরের অফিশিয়াল পোর্টালের লেটেস্ট আপডেট (Latest Update) ও নোটিশগুলো ভালোভাবে পড়ে বা যাচাই করে নেওয়া বাধ্যতামূলক। অন্যথায় টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে আপনার সাবমিশনে সমস্যা হতে পারে।


​প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ - Frequently Asked Questions)

​১. রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় কখন?

সাধারণত প্রতিবছর ৩০শে নভেম্বর পর্যন্ত কোনো জরিমানা ছাড়াই স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতারা তাঁদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারেন। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এই সময়সীমা বাড়াতে পারে।

​২. অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার পর কি তা সংশোধনের সুযোগ আছে?

হ্যাঁ, অনলাইন ই-রিটার্ন সিস্টেমে যদি সাবমিট করার পর কোনো ভুল ধরা পড়ে, তবে নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের অনুমতিক্রমে বা সিস্টেমের বিধান অনুযায়ী রিভাইজড (Revised) রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

​৩. সাবমিট করার পর অ্যাকনলেজমেন্ট রিসিপ্ট হারিয়ে গেলে কি পুনরায় ডাউনলোড করা যায়?

অবশ্যই। আপনি যেকোনো সময় আপনার ই-রিটার্ন অ্যাকাউন্টে লগইন করে পূর্বে দাখিল করা রিটার্নের স্বীকৃতিপত্র বা অ্যাকনলেজমেন্ট রিসিপ্ট এবং রিটার্নের কপি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

​৪. পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে কীভাবে উদ্ধার করব?

লগইন পোর্টালে থাকা 'Forgot Password' অপশনে ক্লিক করে আপনার টিআইএন এবং নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিয়ে ওটিপি (OTP) ভেরিফিকেশনের (Verification) মাধ্যমে খুব সহজেই নতুন পাসওয়ার্ড সেট করে নিতে পারবেন।

​৫. জিরো রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য কি কোনো ফি বা কর দিতে হয়?

না, জিরো রিটার্ন বা শূন্য রিটার্নের ক্ষেত্রে আপনাকে কোনো ধরনের কর বা ফি পরিশোধ করতে হয় না। এটি সম্পূর্ণ করমুক্ত।

​শেষ কথা

​আয়কর দেওয়া কোনো বোঝা নয়, বরং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় একজন দায়িত্বশীল নাগরিকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। বর্তমান আধুনিক ডিজিটাল যুগে ঘরে বসে অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করার এই সুযোগ আমাদের জীবনকে যেমন সহজ করে দিয়েছে, তেমনি কর ব্যবস্থাপনায় এনে দিয়েছে দারুণ স্বচ্ছতা। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো হাতের কাছে গুছিয়ে রেখে একটু ঠান্ডা মাথায় নিয়মগুলো মেনে চললে আপনি নিজেই নিজের রিটার্ন খুব সুন্দরভাবে সাবমিট করতে পারবেন। আশা করি এই বিস্তারিত ও তথ্যবহুল গাইডলাইনটি আপনার আয়কর জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ, নির্ভুল ও সাবলীল করে তুলবে।


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন